আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ সম্প্রসারিত হবে, যা মহামারী-পূর্ববর্তী গড় ৩ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় কম। খবর আরব নিউজ।
বেইজিংয়ে গত রোববার চায়না ডেভেলপমেন্ট ফোরামে এসব তথ্য জানান আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক।
তিনি জানান, ২০০৮-০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর থেকে আন্তর্জাতিক টোটাল ফ্যাক্টর প্রডাক্টিভিটি (টিএফপি) বাড়ার গতি মন্থর। এটি উৎপাদনশীলতার এমন পরিমাপ, যেখানে একই পরিমাণ ইনপুট ব্যবহার করে কত বেশি আউটপুট পাওয়া যায় সে ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। কোনো দেশ বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক টিএফপি।
আইএমএফের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ভবিষ্যতে আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা দেখা যাবে। জানুয়ারিতে একই ইঙ্গিত দিয়েছিল জাতিসংঘ। ওই সময় পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে সৌদি আরবের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩ ও ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
আগামী পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধি বিষয়ে নাইজেল ক্লার্ক বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল কিন্তু হতাশাজনক। বাণিজ্য ও মূলধন প্রবাহের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বাণিজ্য আর আগের মতো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি নয়। দেশগুলোয় বৈষম্য বাড়ছে এবং বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো নীতিগত অগ্রাধিকার পরিবর্তন করছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশগুলোর কাঠামোগত সংস্কার করা উচিত।’
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং গবেষণা ও উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব বলেও জানিয়েছেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আইএমএফ গবেষণার বরাতে ক্লার্ক জানিয়েছেন, উন্নত অর্থনীতিতে হাইব্রিড নীতির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বছরে দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে। হাইব্রিড নীতি একটি শক্তিশালী কৌশল, যা উন্নত অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এ নীতি অনুযায়ী, যদি সরকারি গবেষণা ব্যয় এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানো হয় এবং বেসরকারি গবেষণায় ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হয়, তবে তা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি বছর দশমিক ১ থেকে দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যেতে পারে।
নীতিগত পরামর্শ, ঋণ প্রদান, নিয়ন্ত্রক বাধা দূরীকরণ, কর ব্যবস্থা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করার মাধ্যমে দেশগুলোকে সহায়তা করছে আইএমএফ। লক্ষ্য বাস্তবায়নে উদ্যোক্তা ও প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত একটি নতুন আইএমএফ উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক।